বুধবার, অক্টোবর ৯, ২০১৯

নুন কমান, হার্ট বাচান (৪র্থ পর্ব )

নুন কমান, হার্ট বাচান (৪র্থ পর্ব )

image_pdfimage_print

এ দেশের মানুষ দিনে গড়ে নুন খান প্রয়োজনের তুলনায় দুই থেকে তিন গুন (৫ গ্রাম বনাম ১০-১৫  গ্রাম)। ভারতীয়দের মধ্যে রক্তচাপের প্রাবল্য, স্ট্রোক আর কোরোনারি হৃদ রোগের প্রকোপ এত বেশি হবার পেছনে বেশি নুন খাওয়ার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ন একটা কারণ।

বেশি নুন খেলেও শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়ামের আঁচ না-লাগতে পারে কিডনি বেশি নুন শরীর থেকে ছেঁকে বার করে দিতে পারলে। কোন মানুষের কিডনিই এ-কাজে ততটা সক্ষম নয়। আগে বলা ‘ইন্টারসল্ট স্টাডি’র সঙ্গে যুক্ত ভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের এ সংক্রান্ত বক্তব্যের উল্লেখ এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হবে। এখন আমাদের ভারতীয়দের শরীর নুনের ছড়াছড়ি, বলেছেন ঐ বিজ্ঞানীরা। এত বেশি নুনের ক্ষতি থেকে বাচার মতো কোনও সুরক্ষা এখনও পর্যন্ত ভারতীয়দের শরীরে তৈরি হয়নি। যে ভাবেই হোক, সুস্থতার জন্য খাবার দাবারে নুনের পরিমাণ তাই কমাতে হবে।

হৃদ্ররোগ আটকাতে খাবারে নুনের ব্যবহারে পরিমিত আনার কোনও বিকল্প নেই। বেশি নুনে অভ্যস্ত মানুষ কম নুনের খাবারে স্বাদ পান না। তার মানে এই নয় যে কম নুনের খাবার মানেই খাবারের স্বাদ কমে যাবে। স্বাদ বোধের ধারনাও অনড় নয়, একই মানুষের স্বাদবোধও নানা ভাবে বদলে যেতে পারে। জিভের স্বাদ কোরকগুলোকে ধীরলয়ে কম নুনের খাবারে অভ্যস্ত করে তোলা কঠিন নয়। কঠিন নয় পর্যায়ক্রমে নুন কমাতে কমাতে কম নুনের খাবারে রপ্ত হয়ে ওঠা।

নোনতা খাবার বা বেশি নুনের খাবার যতই সুস্বাদু মনে হোক, কম নুনে অভ্যস্ত  মানষ এরকম খাবারে অস্বস্তি বোধ করেন। নুন কম খাওয়ার রপ্ত হয়ে ওঠাটাই তাই মুল প্রয়োজন। নোনতা খাবার দেখে জিভের  জল টেনে কষ্ট করে পেছন ফিরে থাকার চাইতে কম নুনে রপ্ত হওয়ায় নোনতা খাবারের মখোমুখি অবিচলিত থাকা- হৃদ রোগ আটকাতে এই দ্বিতীয় পদ্ধতিই বাস্তবসম্মত। বিজ্ঞানসম্মতও।

লিখেছেন  ডাঃ শ্যামল চক্রবর্তী

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন