মঙ্গলবার, অক্টোবর ৮, ২০১৯

খাবারে নুন আর হৃদরোগ (২য় পর্ব)

খাবারে নুন আর হৃদরোগ (২য় পর্ব)

image_pdfimage_print

বেশি ভোগেন কালো মানুষ

আমাদের মত বা যে-কোনও দেশের কালো চামড়ার মানুষের পক্ষে খাবারে বেশি নুন সাদা চামড়ার সাহেবদের চাইতে বেশি ক্ষতিকর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিগ্রো আর সাদাদের মধ্যে শরীরে বেশি নুনের  তুলানামুলক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘ গবেষনার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। শরীরে নুনের প্রভাবের এই  অযৌক্তিক বর্ণবৈষম্যের কারণটা এখন আর অজানা নয়, জানা।

শরীরে খাবারের সঙ্গে ঢোকা নুনের একটা অংশ কিডনি দিয়ে ছেঁকে বেরিয়ে যায় মূত্রের সঙ্গে। কালো মানুষদের কিডনি রক্তের নুন ছাঁকতে পারে কম, সাদাদের বেশি। সাদাদের তুলনায় কালো মানুষের মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে নুন বার হতে পারে বেশি। জানা গেছে, একজন মানুষের শরীরে ছাকনিযন্ত্র কিডনি কিভাবে মোকাবেলা করছে রক্তে থাকা নুনের, তার ওপর নির্ভর করে ওই মানুষটির রক্ত চাপের দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রন। সাদা চামড়ার মানুষের শরীরে নুনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে বেশি সক্রিও থাকে কিডনি। কালো চামড়ার মানুষের কিডনির এক্ষত্রে সক্রিয়তা তুলনায় কম।

বেশি নুন শরীরে ঢুকলে তাই শরীরে নুনের ক্ষতিকর প্রভাব বেশি পড়বে আমাদের মতো কালো মানুষের। বাড়বে রক্তচাপের বাহুল্য, ক্রোনারি ধমনীর গহ্বর সরু হয়ে করীনারি হৃদরোগে ভোগার ঝুকিও বাড়বে। সাদা চামড়ার মানুষের এরকম রোগের ঝুঁকি তুলনায় কম।

এ শরীরে নুনের কথা

নুন বেশি খেলে রক্তচাপ বাড়ে। রক্তচাপ বাড়লে নুন খাওয়া কমিয়ে দিলে আবার রক্ত চাপের মাত্রা সামান্য হলেও কমে। নান গবেষনায় এই তথ্য প্রমাণিত হয়েছে বারাবার। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাই অনেক কাল থেকে বেশি নুন খাওয়া এড়িয়ে চলতে বলেছেন। বিশেষ করে রক্তচাপ বাড়লে এরকম নিয়ন্ত্রন আরও কোঠর করে দৈনিক শরীরে ঢোকা নুনের মাত্রাকে পাঁচ গ্রামে সীমাবদ্ধ রাখতে বলা হয়। শরীরে ঢোকা নুনকে  কীভাবে মোকাবেলা করবে আপনার কিডনি তা নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ওপর।

বংশগতি, খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টির মান আর বেঁচে থাকার পরিবেশের ওপর নির্ভর করে আপনার আমার শরীরে ঢোকা নুনের ভবিষ্যৎ। নির্ভর করে শরীরে খাবারে বিপাক আর নির্দিষ্ট কিছু হরমোনের মাত্রার ওপরও, এই শর্তগুলো ঠিক করে দেয় শরীরে ঢোকা অতিরিক্ত নুন কতটা ক্ষতি করবে কিডনির, ধমনীর, হৃদযন্ত্রের।

অনেক অনেককাল আগে পরিবেশে নুনের পরিমাণ ছিল প্রয়োজনের তুলনায় কম। লবনের স্বল্পতায় সেই আদিম পরিবেশে মানুষ নুন পেলে নির্দিষ্ট জিনের প্ররোচনায় একটু বেশি নুন খেয়ে শরীরে নুনের ভারসাম্য বজায় রাখত। পরে পরিবেশের নুন অনেক অনেক বেড়ে গেলেও নুন খেতে প্ররোচনা দেওয়া সেই প্ররোচক জিন থেকে গেছে আমাদের শরীরে। এরকম জিনের প্ররোচনা (Genetic Thrive)-য় আপনি আমি নুন খেতে ভালোবাসি এমন একটা ধারনা আগে অনেকের মধ্যে ছিল।

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে এরকম ধারণার অসারতা। জানা গেছে, পরিবেশে নুনের জোগান ব্যাপক ভাবে বাড়তে থাকায় মানুষের শরীরে লুপ্ত হয়ে গেছে ওই নুনলোভী জিন। বেশি নুন খাওয়া সভ্য সমাজের অভ্যাসমাত্র। সংস্কার বলা যায় একে। গবেষকরা প্রমান করেছেন, একদিনে নয়, পর্যায় ক্রমে কমাতে দিনে নুন খাওয়ার স্বাস্থ্যকর পাঁচগ্রামে নামিয়ে আনা আদৌ কঠিন নয়।

লিখেছেন  ডাঃ শ্যামল চক্রবর্তী

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন